সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএনপিতেই রাজনীতি চালানোর সিদ্ধান্ত রাশেদ খাঁনের, ফিরছেন না গণঅধিকারে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৬

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন করে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন রাশেদ খান। দীর্ঘ সময় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গণঅধিকার পরিষদ ছাড়ার পর তিনি যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এ। নির্বাচনের পর স্পষ্ট হয়েছে, তার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন মূলত বিএনপির সঙ্গে যুক্ত।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর অংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন রাশেদ খান। যদিও নির্বাচনে তিনি জয়ী হননি, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আর গণঅধিকার পরিষদে ফিরবেন না।

নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, “আমি বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাই। এটিই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।” একই সঙ্গে তিনি জানান, গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব, যিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পেয়েছেন, আর রাশেদ খান পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।

রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপি যৌথভাবে আসন বণ্টন এবং সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে গণঅধিকার পরিষদে থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার পক্ষে কাজ করেছেন। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অনেকাংশে মিলিত হওয়ায়, বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটির সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতি চালানোই তার মূল লক্ষ্য।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান রাশেদ খান। এটি স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে, বিশেষ করে ঝিনাইদহ-৪ আসনটি তাকে দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। রাশেদ খান জানান, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, এবং যারা সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তারা ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থন তার সঙ্গে ছিল। যদিও এখনো বিএনপির কোনো কমিটিতে নিয়মিত পদে নেই, তবুও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন। ঝিনাইদহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অধিকার তার রয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পরেও রাশেদ খানের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন হয়নি। গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এটি তার জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান দৃঢ় করার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top