বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী-এর গুমের রহস্য শিগগিরই উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা এবং সিলেট বিভাগের গর্ব। ২০১২ সালের ১৭ বা ১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। এর আগে ১৪ এপ্রিল সিলেটে ছাত্রদলের দুই নেতা ইফতেখার আহমেদ দিনার ও জুনায়েদকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার মধ্যে একটি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তিনি জানান, অপহরণের সময়কার ৮টি টেলিফোন নম্বরের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নম্বরের কথোপকথন বিশ্লেষণে অস্বাভাবিক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা যায়, এসব ফোন ব্যবহারকারীরা ওইদিন ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করছিলেন।
চলমান একটি মামলায় জিয়াউল আহসান-এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের সময়ও ইলিয়াস আলীর গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও সাক্ষ্য থেকে নতুন তথ্য আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ-কে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকেও গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের সাক্ষী করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক সহকর্মী এবং ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে উপস্থিত ব্যক্তিদেরও সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের এপ্রিলের শুরুতে ঢাকায় নিখোঁজ হন সিলেট জেলা বিএনপির দুই নেতা। তাদের সন্ধান দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী। দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এই গুমের রহস্য পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।