মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

বিসিবিতে জমা পড়ল জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন

খেলাধুলা ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৮

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা পড়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে সোমবার এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিম–এর নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল–এর হাতে তুলে দেয়। তবে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু বা সুপারিশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

তিন দফা সময় বাড়ানোর পর এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো। শুরুতে বিসিবি জানিয়েছিল, অভিযোগ পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী জাহানারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হয়। তখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এই পেসার কিছুটা সময় চান এবং তাকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর বিসিবি জানায়, তদন্ত কমিটিকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সময় বোর্ড জানায়, ন্যায্য তদন্ত নিশ্চিত করতে আরও কয়েকজনের বক্তব্য গ্রহণ ও অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া শেষ করেই এবার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো।

গত মাসে এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে জাহানারা আলম অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ চলাকালে তখনকার নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তিনি মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা এবং প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণের অভিযোগও তোলেন।

একই সঙ্গে তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ–এর বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগ করেন। তৌহিদ মাহমুদ এক সময় সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এ ছাড়া নারী দলের ব্যবস্থাপনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন জাহানারা।

এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আরও কয়েকজন নারী ক্রিকেটার মুখ খুললে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিসিবি প্রথমে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিচারপতি তারিক উল হাকিম। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিসিবির নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

কমিটির গঠন নিয়ে সমালোচনার মুখে পরে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়। নতুন করে যুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ড. নাইমা হক ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top