আফগানিস্তানে নতুন আইন- ‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:৪১
আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার নিয়ে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তালেবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন এক দণ্ডবিধির মাধ্যমে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জারি করা ৯০ পৃষ্ঠার এই ফৌজদারি আইনে স্বামীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হলেও, মারধরের ফলে যদি ‘হাড় ভেঙে যায়’ বা গুরুতর জখম হয়, তাহলে শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।
পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি নিয়মাবলী) নামে পরিচিত এই দণ্ডবিধি ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথির একটি অনুলিপি সংবাদমাধ্যমটি দেখেছে বলেও জানানো হয়েছে।
নতুন আইনে সমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে—উলামা (ধর্মীয় বিদ্বান), আশরাফ (অভিজাত), মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। আইন অনুযায়ী, একই অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণে অপরাধের মাত্রার চেয়ে অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
আইনটিতে বলা হয়েছে, স্বামী যদি ‘অতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান জখম বা হাড় ভাঙার কারণ হন, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে স্ত্রীকে আদালতে নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে। এছাড়া আদালতে জখম দেখাতে হলে নারীকে পূর্ণ হিজাব পরিহিত থাকতে হবে এবং তার সঙ্গে স্বামী বা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তার জন্য শাস্তির বিধান থাকবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।
মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন এই দণ্ডবিধি কার্যকর হলে আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আইনি সুরক্ষা সীমিত হয়ে যেতে পারে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।