বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ, মঙ্গল শোভাযাত্রায় মিলন ও প্রতিবাদের সুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪৩

সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা ক্যালেন্ডারের ভিন্ন তারিখ অনুসারে বাংলাদেশে নববর্ষ পালিত হলেও কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করা হয়।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারত-এর বিভিন্ন রাজ্যেও ভিন্ন নামে নববর্ষ উদযাপন করা হয়—পাঞ্জাবে বৈশাখী, তামিলনাড়ুতে পুঠান্দু, কেরালায় ভিশু, আসামে বোহাগ বিহু এবং ওড়িশায় পানা সংক্রান্তি।

এদিন কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার আদলে তৈরি এসব শোভাযাত্রায় মুখোশ, লোকজ শিল্প, পালকি ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশ নেয়।

দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া এলাকার একটি বড় শোভাযাত্রা যাদবপুর থেকে হালতু পর্যন্ত দীর্ঘ রুটে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রার রাস্তাজুড়ে আল্পনা ও লোকশিল্পের নানা রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।

এ বছরের শোভাযাত্রার একটি আলোচিত বিষয় ছিল থিম—‘বাঙালির নাগরিকত্বের সংকট’। এতে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু, অভিবাসন, পরিচয় সংকট এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্কের প্রতীকী উপস্থাপন করা হয়।

অনেক আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী এটিকে বাঙালির ঐতিহ্য ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি মিলন, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তাও দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কলকাতা বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস এবার বড় কোনো আয়োজন না করলেও বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে প্রভাতফেরি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট-সহ বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন দেখা যায়।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এবারের পহেলা বৈশাখ রূপ নেয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বার্তার এক বর্ণাঢ্য উৎসবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top