যুদ্ধ-সংঘাতকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান ইরানের ইহুদিদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৮
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই ধর্মীয় বিভাজনের দিকে মোড় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইহুদি সম্প্রদায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এই যুদ্ধকে ধর্মের সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়। রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে তারা শান্তির আহ্বান জানিয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
বার্তা সংস্থার খবরে জানা যায়, বৃহস্পতিবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইউসেফ আবাদ উপাসনালয়ে জড়ো হন ইরানের ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই তারা প্রার্থনা ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত সদস্যরা প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর দেশের বিপ্লবী ও ধর্মীয় নেতাদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে সম্প্রদায়ের নেতাদের বক্তব্য শোনেন।
সম্প্রদায়ের সদস্য এলি ইয়াহু বলেন, এই সংঘাতকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা ঠিক নয়। এটি মূলত ইরান ও জায়োনবাদ এবং মার্কিন আধিপত্যবাদের মধ্যকার সংঘাত। তিনি আরও বলেন, ইরানের ইহুদি জনগোষ্ঠী বরাবরই অন্যান্য নাগরিকদের সঙ্গে মিলেমিশে বিভিন্ন সংকট অতিক্রম করেছে।
এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় নয় হাজার। সম্প্রদায়ের আরেক সদস্য মারজানি ইয়াশায়েই আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং ধর্মভিত্তিক বিভাজন তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা ইউনেস হামামি লালেহজার বলেন, সহিংসতাকে বৈধতা দিতে ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো পক্ষের নিরীহ মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর সংঘাতের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।
এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। সংঘাতের প্রভাবে তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।