শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় চলছে পৌর নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৭

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সীমিত পরিসরে পৌর নির্বাচন শুরু হয়েছে। ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই কেন্দ্রীয় গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা ভোট দিচ্ছেন। গাজায় সংঘাত শুরুর পর এটিই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন।

শনিবার সকাল সাতটা থেকে গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় প্রায় সত্তর হাজার ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র খোলা হয়। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই এলাকাকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজার একটি শহরে সীমিত আকারে এই ভোট আয়োজন মূলত প্রতীকী এবং এটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি, তাই বিকল্প পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় পনেরো লাখ নিবন্ধিত ভোটার স্থানীয় পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন। এসব পরিষদ পানি, সড়ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা, দুর্নীতি এবং দীর্ঘদিন জাতীয় নির্বাচন না হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে নিজেদের সংস্কার ও বৈধতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

গাজার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এই নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি। তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, গাজা ও পশ্চিম তীর—উভয় স্থানেই সংগঠনটি এখনো জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রয়েছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় রামাল্লাহভিত্তিক কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন দেইর আল-বালাহে প্রথম ধাপে ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের আগে তারা ইসরায়েল বা হামাস—কোনো পক্ষের সঙ্গেই সরাসরি সমন্বয় করতে পারেনি। এমনকি ব্যালট পেপার, বাক্স কিংবা কালি গাজায় পাঠানোও সম্ভব হয়নি।

কমিশনের মুখপাত্র ফারিদ তামাল্লাহ বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পশ্চিম তীর ও গাজাকে একটি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সংযুক্ত রাখা।

অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে পঞ্চাশ থেকে ষাট শতাংশের মধ্যে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা কমেছে।

উল্লেখ্য, দুই হাজার ছয় সালের সংসদ নির্বাচনে হামাস জয়লাভ করে এবং পরের বছর ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপ-সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ বলেন, চরম চ্যালেঞ্জপূর্ণ এই সময়ে নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বর্তমানে গাজার একটি অংশ হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটি নতুন শাসন কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি বোর্ড এবং মনোনীত ফিলিস্তিনি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা রয়েছে।

তবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরসহ পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতি এখনো স্থবির অবস্থায় রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top