শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনা ছিল লিমন–বৃষ্টির, কিন্তু তার আগেই...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১১
শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনা ছিল দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই নৃশংস এক ঘটনায় থেমে গেল তাদের জীবনযাত্রা।
নিহত লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাতে জানা গেছে, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় লিমন বৃষ্টির প্রশংসা করতেন। তিনি জানান, বৃষ্টি প্রতিভাবান—গান ও রান্না দুটোতেই পারদর্শী ছিলেন।
জুবায়ের আরও বলেন, তার ভাই খুবই ভদ্র ও হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছাও ছিল তার।
প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। একই সময় থেকে নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টিও। পরে শনিবার ভোরে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান তার ভাই।
এই ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি লিমনের সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর একটি সেতু এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুর ঘটনা গোপন রাখা এবং মরদেহ সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি বাড়ির ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। পরে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সন্দেহভাজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগেও তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেখা যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ না পেয়ে নিখোঁজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে শেরিফ জানান, এই ঘটনা পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেক মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুই তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাদের অসমাপ্ত স্বপ্ন আর ফিরে আসবে না এই বাস্তবতাই এখন সবচেয়ে বড় বেদনা।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।