কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী অং সান সু চি
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬, ১১:৫০
মিয়ানমারের কারাবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সু চির ছেলে কিম অ্যারিস। তার দাবি, তার মা বেঁচে আছেন কি না সে বিষয়েও তার কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
এর আগে গত শুক্রবার সু চির আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তার সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। তবে বাকি সাজা গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে জানান, সু চির অবশিষ্ট সাজা ‘নির্ধারিত বাসস্থানে’ কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়।
কিন্তু সেই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন কিম অ্যারিস। তিনি বলেন, প্রকাশিত ছবিটি পুরোনো, ২০২২ সালে তোলা। ফলে এটিকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ।
তার ভাষায়, “আশা করি খবরটি সত্যি। কিন্তু তাকে কারাগার থেকে সরানো হয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। যতক্ষণ না তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারছি বা স্বাধীনভাবে কেউ তার অবস্থান যাচাই করছে, ততক্ষণ কিছুই বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের দিন গ্রেপ্তারের পর থেকেই সু চির বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তার আইনজীবীরা দেখা করতে পারেননি, পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে তার স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এদিকে গৃহবন্দী করার বিষয়ে সু চির আইনজীবীদের সরাসরি কিছু জানানো হয়নি বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন মিন অং হ্লাইং। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রীকে রাজধানী নেপিডোর একটি সামরিক কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির শাসনভার ধরে রেখেছেন মিন অং হ্লাইং। সম্প্রতি তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ওই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল না।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।