শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

ভেন্টিলেটর সংকটে ১১ দিনে ৩৩ শিশুমৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৩

সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে টানা ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি “চরম দায়িত্বহীনতা” হিসেবে উল্লেখ করেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) শাহবাগ-এর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসা নৈতিকতা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিচালক তাকে ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়ে আগে থেকে অবহিত করেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন দায়িত্বহীনতার জন্য কঠোর জবাবদিহি প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে মিডিয়ার ওপর দোষ চাপালেও পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সত্যতা প্রমাণিত হয়। এতে সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও দুটি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রেখে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান-এর চলমান সংঘাতের প্রভাব যাতে দেশের বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যখাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, হাসপাতালগুলোতে এমআরআইসহ জরুরি সেবা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কিছু অসৎ চিকিৎসকের কর্মকাণ্ড পুরো স্বাস্থ্যখাতের সুনাম নষ্ট করতে পারে, যা জাতির জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ও অনিয়মে জড়িত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ পেশাগত নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর দেশে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ পেলেও পরে ভারতে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

শেষে তিনি চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা এবং আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নাল অনুসরণের আহ্বান জানান, যাতে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত সেবা নিশ্চিত করা যায়।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top