বৃহঃস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

‘উড়াল দেব আকাশে’ পোস্ট দিয়ে নিরুদ্দেশ সাবেক ইউপি সদস্য, খুঁজছে পুলিশ

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, ১২:৩৪

ছবি: সংগৃহীত

‘উড়াল দেব আকাশে…’ এমন এক রহস্যময় ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮)। তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পটুয়াখালী-লোহালিয়া সেতু এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় তার মামা মো. সোহরাব হোসেন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ শহিদুলকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার মৃত রোশন আলী জোমাদ্দারের ছেলে। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন, তবে এখনো নববধূকে নিজ বাড়িতে আনা হয়নি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি শহরের সবুজবাগ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সময় কাটান।

বাড়ি ফেরার পথে তিনি মায়ের জন্য ওষুধও কিনে আনেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবার তার এই আচরণ ও নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না।

তার চাচাতো ভাই আরিফ হোসেন জানান, বাসায় ফিরে তিনি পরিচিত মোটরসাইকেলচালক বাবুকে ফোন করে ডাকেন। এরপর নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

মোটরসাইকেলচালক বাবুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৭টার দিকে লোহালিয়া সেতুর ঢালে তাকে নামিয়ে দিয়ে ১০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করেন শহিদুল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।

শহিদুলের মামা সোহরাব হোসেন বলেন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ বা পারিবারিক সমস্যাও ছিল না। তাই হঠাৎ তার নিখোঁজ হওয়া রহস্যজনক।

স্থানীয় বাসিন্দারাও তাকে ভদ্র, নম্র ও জনপ্রিয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগের ছায়া। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সন্ধান কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top