সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

করোনা পরবর্তী সময়ে তেলের দাম সর্বোচ্চ, বাড়তে পারে আরও

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬, ১১:০৮

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবেই এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সর্বশেষ লেনদেনে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম উঠেছে প্রায় ১০৮ দশমিক ৭৭ ডলারে। করোনা মহামারির পর একদিনে এটিই তেলের দামের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারে বাড়তি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সামনে কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস ধরে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর ঘিরে তেলের চালান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ কমে গেলে সেই ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নাও হতে পারে।

একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উৎপাদক গুদামে তেলের মজুদ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তারা তেলের কূপ সাময়িকভাবে বন্ধ করতেও বাধ্য হতে পারেন। এমন হলে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।

অন্যদিকে আরেক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসমান সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এই জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

তার মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তার সতর্কবার্তা, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি আবারও নতুন করে মন্দার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top