হাম কি? লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানুন
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৪
হাম কী?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা রুবেলা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শুরুতে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে যায়। কয়েকদিন পর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেয়। এই ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, ফলে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
হামের জটিলতা
হাম অনেক সময় গুরুতর রূপ নিতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, কানপাকা, মুখে ঘা, অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ হতে পারে। এছাড়া শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দেখা দিয়ে চোখের সমস্যা, এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়?
হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের অন্য শিশুরা সহজেই সংক্রমিত হয়।
হামের টিকা
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য দুই ডোজ এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়—প্রথমটি ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। এই টিকা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া যায়।
টিকা নেওয়ার পরও কেন হাম হয়?
সব শিশু টিকার আওতায় আসে না বা কেউ কেউ একটি ডোজ নিয়েই থেমে যায়। ফলে তারা সহজেই আক্রান্ত হয় এবং অন্যদের মধ্যেও রোগ ছড়ায়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও শরীরে যথেষ্ট প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হলে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে।
অভিভাবকের করণীয়
- জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- র্যাশ ওঠার পর অন্তত ৫ দিন শিশুকে আলাদা রাখুন।
- শিশুর খাবার ও পরিচর্যা চালিয়ে যান।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ দিন।
- শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা চোখে সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।