গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণার নির্দেশ
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:২৫
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর।
একই সঙ্গে দুই অধিদফতরের আওতাধীন সব শিক্ষা দফতরকেও এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে জারিকৃত পৃথক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণভোটের লোগো সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দৃষ্টিনন্দন ও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সকল যোগাযোগ ও দাফতরিক চিঠিপত্রে গণভোটের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মাউশি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে জারি করা পৃথক চিঠি দুটি গতকাল সোমবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, গণভোট বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সকল সরকারি যোগাযোগে— যেমন পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রে গণভোটের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে হবে।
এছাড়া অধিদফতরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও দফতরের সামনে অন্তত দুটি করে খাড়া ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই তারিখে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গণভোটের বার্তা পরিবার পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালাতে হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ উল্লিখিত রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের মতামত জানতে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদ সীমা নির্ধারণ, জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
সচেতনতামূলক ব্যানারগুলোতে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরে স্লোগান দেওয়া হয়েছে—
‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে।’
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।