ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।
আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের এক ধরনের বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি দেশের ভেতরের বিভিন্ন উৎস থেকেও বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুয়া সংবাদ ও অনুমানভিত্তিক তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এর জবাবে ভলকার টুর্ক জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, ভুয়া তথ্যের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে অনেক বেশি। এ সমস্যা মোকাবিলায় যা করা প্রয়োজন, জাতিসংঘ তা করতে প্রস্তুত এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে মানবাধিকার কার্যালয়।
টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুমসংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার টুর্ক গুমসংক্রান্ত বিষয়গুলোর অনুসন্ধান ও কার্যক্রম এগিয়ে নিতে একটি ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এর জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যাওয়ার আগেই এটি করব।”
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও জানান, গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তিনি ইতোমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় ভলকার টুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গুমসংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
টেলিফোনালাপের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।