এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন পেলো লাল সবুজ সোসাইটি

আহসান সাকিব হাসান | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫৫

এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন পেলো লাল সবুজ সোসাইটি । ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে ধীরগতিতে কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ে যুব নেতৃত্বে এগিয়ে চলা সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটি অবশেষে সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন অর্জন করেছে।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি পায় সংগঠনটি। এদিন বেলা ১১টায় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত নিবন্ধনপত্রটি লাল সবুজ সোসাইটির সভাপতি তাহসীন উদ্দীনের হাতে তুলে দেন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ মিয়া।

২০১০ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠাতা তাহসীন উদ্দীন তার বন্ধু ফাহিম সৌরভ ও নাজমুল হক নাঈম–কে সঙ্গে নিয়ে ‘লাল সবুজ’-এর যাত্রা শুরু করেন। তখন তাঁদের সবার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সুদীর্ঘ দেড়যুগের পথচলা শেষে সেই ছোট উদ্যোগই আজ পরিণত হয়েছে একটি নিবন্ধিত এনজিওতে—লাল সবুজ সোসাইটি।

সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্জন দেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল এবং একঝাঁক সাহসী যুব নেতৃত্বের উদ্যমের প্রতীক।

২০১০ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করা লাল সবুজ সোসাইটি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
“এনগেজিং ইয়ুথ ফর পজিটিভ চেঞ্জ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটি জাতিসংঘ ঘোষিত অন্তত সাতটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অনুসরণ করে কাজ করছে।

বরিশাল থেকে প্রকাশিত ‘লাল সবুজ’ নামের একটি মাসিক পত্রিকার মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি লাল সবুজ ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় এবং ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে।

বর্তমানে লাল সবুজ সোসাইটি দেশের ৩৫টি জেলায় আড়াই হাজারেরও বেশি তরুণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি নেপাল ও মালয়েশিয়ায় নেতৃত্ব দল গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরেও সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে।

এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তরুণরা।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা তাহসীন উদ্দীন বলেন, “আমরা একই সঙ্গে আনন্দিত এবং দায়িত্বশীলতা আরও বেড়েছে। এই দায়িত্বকে সম্মান রেখে সামনে এগিয়ে যেতে আমরা আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবো।”

ভলান্টিয়ার কো-অর্ডিনেটর আজিজুন তমা বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরলসভাবে কাজ করা প্রতিটি ভলান্টিয়ারের অবদানই এই অর্জনের মূল শক্তি। এনজিও হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া শুধু আমাদের জন্য নয়, বরং দেশের সব যুব সংগঠনের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দায়িত্বশীল ও কার্যকর যুব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে লাল সবুজ সোসাইটি একটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে এবং আগামীতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top