রংপুর-৪ আসনে সংঘাত, জাপা ও জামায়াতে ইসলাম পরস্পর মুখোমুখি
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:২৩
রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে ‘দোসর’ স্লোগান দিয়ে হেনস্তা এবং গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর নগরীর সরেয়ার তল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় জাপা প্রার্থীর গাড়ি আটকে দেন এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘দোসর’ স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় একটি দোকানে অবরুদ্ধ থাকা পারুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নগরীর মাহিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান বলেন, একজনের জানাজায় অংশ নিতে পীরগাছা থেকে রংপুর নগরীর দিকে যাওয়ার সময় হাউদারপাড় এলাকা অতিক্রম করার আগ থেকেই ৭–৮টি মোটরসাইকেলে করে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করেন। পরে সরেয়ার তল এলাকায় তার গাড়ি আটকে দিয়ে ‘দোসর, দোসর’ স্লোগান দিতে দিতে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ‘দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মব তৈরি করে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান এবং ভোটারদের টাকা দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, গণসংযোগকালে সাধারণ জনগণ তাকে আটকে দিলে খবর পেয়ে এনসিপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তখন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সরেয়ার তল এলাকায় তাকে আবার দেখা গেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নগরী থেকে প্রায় ৮৭ জন নেতাকর্মী এনে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, কোনো প্রার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের কোনো দায় নেই। এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী সম্পৃক্ত নয়।
রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে লাঙল প্রতীকের লোকজন একজনকে আটকিয়ে রাখে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।