ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনে প্রস্তুত বিএনপি, কেমন হবে প্রথম মন্ত্রিসভা?
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—কেমন হবে দলের প্রথম মন্ত্রিসভা এবং কারা পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমান মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞ প্রবীণদের সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় রাখতে চান। সে লক্ষ্যেই পুরোনো নেতৃত্বের পাশাপাশি একাধিক নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজনের বিষয়েও ভাবছে দলটি।
সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনের পরদিন থেকেই গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন তারেক রহমান। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে ঘনিষ্ঠ ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে পরামর্শ।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভা শুধু ক্ষমতার ভারসাম্য নয়—প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনমুখী ভাবমূর্তি—এই দুই দিক বিবেচনায় রেখে সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারে দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই ছয়টি মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ প্রতিনিধিত্বও থাকতে পারে। নির্বাচনে ভালো করা কয়েকজন নতুন সংসদ সদস্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার আলোচনা রয়েছে।
তরুণদের মধ্যে আলোচনায় যারা দলীয় সূত্রে জানা যায়, তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে যাদের নাম আলোচনায় আছে—শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট), সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, ড. মাহদী আমিন (টেকনোক্র্যাট) , ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার (টেকনোক্র্যাট), শামা ওবায়েদ, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম (টেকনোক্র্যাট), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিনুল ইসলাম (টেকনোক্র্যাট), তানভীর আহমেদ রবীন (টেকনোক্র্যাট), ড. রেজা কিবরিয়া, সাঈদ আল নোমান,, খন্দকার আবু আশফাক, সিনিয়রদের মধ্যেও জল্পনা।
২০০১–২০০৬ মেয়াদের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকে এবারের মন্ত্রিসভায় রাখার চিন্তা রয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তা বিবেচনায় একাধিক সিনিয়র নেতাকেও অন্তর্ভুক্তির আলোচনা চলছে। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে দেখা যেতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া আলোচনায় আছেন—ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অনেকে।
দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকেও নতুন মন্ত্রিপরিষদে রাখা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।