সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠন প্রস্তুতি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৬

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগ নিয়ে এখন চলছে তৎপর আলোচনা। বিরোধী দলে থাকছে জামায়াতসহ তাদের জোটের এমপিরা।

মঙ্গলবার নতুন সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ গঠন শুরু হবে। এরপর নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সরকারি বাসভবনে উঠবেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমজাতীয় পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য মোট ৭১টি সরকারি বাংলো ও বাসা রয়েছে। এসব বাসা প্রস্তুত করার কাজ এখন চলছে। বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে তিনি কোন বাসায় উঠবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনাতে উঠবেন—কিন্তু তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আবাসন পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, “নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসায় উঠবেন তা আমাদের এখনও জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পরই বাসার সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, “প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য সরকারের ৭১টি বাংলোর মধ্যে অর্ধেক খালি এবং বসবাসের উপযোগী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলে তারা সেখানে উঠতে পারবেন। বাকি বাসায় এখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। তারা ছাড়লে নতুনদের জন্য প্রস্তুত করা হবে।”

শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও অন্যান্য পদমর্যাদার ব্যক্তিরা সরকারি বাসাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন। যদি কোনো কারণে বাসা বরাদ্দে বিলম্ব হয়, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী সরকারি ভাতা দেওয়া হবে। বাসা বরাদ্দ দেয়ার জন্য তিনটি কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রধানমন্ত্রীর, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর বাসা বরাদ্দ দেন। অন্য দুটি কমিটি কমকর্তা ও কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ দেয়।

প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন এলাকা ও গুলশান এ সরকারি বাসা রয়েছে। এসব বাসা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মিন্টো রোডের বাস বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্দিষ্ট। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এ বাসায় থেকেছেন। এবার সেখানে উঠবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে তাদের সরকারি বাসা ছাড়তে শুরু করেছেন। এই তালিকায় আছেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top