জামায়াত ৪০ ভোটে এগিয়ে যাওয়ায় বিএনপি নেতাকে পেটালেন কৃষকদল নেতা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:৩১
সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ আসনের বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পাচোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত বিএনপির চেয়ে ৪০ ভোট বেশি পাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান গুরুতর আহত হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষকদল নেতা বেলায়েত হোসেন বিল্লাল–এর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় গাজী মনিরুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গাজী মনিরুজ্জামানের মেয়ে মানসুরা জান্নাত বাদী হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বেলায়েত হোসেন বিল্লালকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (নির্বাচনের দিন) সন্ধ্যা ছয়টার পর পাঁচোড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলাফলে জামায়াত বিএনপির চেয়ে ৪০ ভোটে এগিয়ে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকদল নেতা বেলায়েত হোসেন বিল্লালের নেতৃত্বে গাজী মনিরুজ্জামানের ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি কর্মীর অভিযোগ, পাচোড়া কেন্দ্রে আগে কখনো বিএনপি পরাজিত হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো পরাজয় হওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর ক্ষোভ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক কর্মী জানান, নির্বাচনের আগে থেকেই গাজী মনিরুজ্জামান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজের মতো করে নির্বাচন পরিচালনা করছিলেন। এর ফলেই কেন্দ্রে বিএনপির পরাজয় ঘটে এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়।
হামলায় আহত গাজী মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই কৃষকদল নেতা বেলায়েত হোসেন বিল্লাল প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের দিন পরিকল্পিতভাবেই আমার ওপর হামলা চালানো হয়। বিএনপিকে পরাজিত করার পেছনেও তার ভূমিকা রয়েছে। এ ঘটনায় আমার মেয়ে বাদী হয়ে মামলা করেছে।”
মামলার প্রধান আসামি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন বিল্লাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“পাচোড়া কেন্দ্র সব সময় বিএনপির ছিল। এবার ইউনিয়ন বিএনপির গাফিলতির কারণে পরাজয় হয়েছে। সন্ধ্যার পর কয়েকজন যুবক ধাওয়া করেছে ঠিকই, তবে এরপর কী হয়েছে আমি জানি না। আমাকে হয়রানি করে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য অ্যাডভোকেট তাইফুর আলম ও তাজুল ইসলাম চেয়ারম্যানকে বলেছি।”
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুর রহমান জানান, “বুড়িচং উপজেলায় ৮৩টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজাপুরের ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।