শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভালোবাসার প্রভাব

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৭

ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি আবেগ নয়; এটি ঈমানের প্রাণ, ইবাদতের ভিত্তি এবং মুক্তির নিশ্চিত পথ। যে হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা থাকে, সে হৃদয় আনুগত্যে কোমল হয়, গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং সর্বদা রবের সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকে। ইমাম হাসান বসরি (রহ.) বলেন, “তুমি কখনো আল্লাহকে ভালোবাসতে পারবে না, যতক্ষণ না তাঁর আনুগত্য করতে ভালোবাসো।”

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন,
“বলুন, হে মুহাম্মদ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
— (সুরা আলে ইমরান: ৩১)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, আল্লাহর ভালোবাসা লাভের অন্যতম পথ হলো রাসুল (সা.)–এর অনুসরণ—তাঁর কথা, কাজ ও চরিত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
“আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”
— (সুরা জারিয়াত: ৫৬)

অতএব, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমেই বান্দা তাঁর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া–আখিরাতে সফলতা লাভ করে।

আল্লাহর ভালোবাসার মহিমান্বিত প্রভাব

১. ক্ষমা লাভ ও তাওবার আগ্রহ সৃষ্টি
আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয় এবং তাকে তাওবার পথে দৃঢ় রাখে। কোরআনের ঘোষণাই হলো—আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করেন।

২. সৃষ্টিজগতের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা
রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাইল (আ.)–কে বলেন তাকে ভালোবাসতে। এরপর আসমানবাসী ও পৃথিবীবাসীর হৃদয়ে তার জন্য ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়।
— (সহিহ মুসলিম: ২৬৩৭)

৩. বিশেষ হেফাজত, সাহায্য ও দোয়া কবুল
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ বলেন—যাকে তিনি ভালোবাসেন, তার শ্রবণ, দৃষ্টি, হাত ও চলার শক্তির সহায়ক হয়ে যান; বান্দা যা প্রার্থনা করে তা দান করেন এবং আশ্রয় চাইলে আশ্রয় দেন।
— (সহিহ বুখারি: ৬৫০২)

৪. আনুগত্যে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ
আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর আদেশ পালনে উদ্বুদ্ধ করে। ইবাদতের কষ্ট সহজ হয়ে যায় এবং জান্নাতের পথ সুগম হয়।

৫. জিকিরে নিমগ্ন থাকা
আল্লাহর ভালোবাসা বান্দাকে অধিক জিকিরে অভ্যস্ত করে তোলে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, “বান্দা যখন আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে স্মরণ করি।”
— (সহিহ বুখারি: ৭৪০৫)

আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন, যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে।”
— (সুরা মায়িদা: ৫৪)

ইমাম ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) বলেন, “আল্লাহর ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তর হলো—তাঁর দান ও বঞ্চনা যখন তোমার কাছে সমান হয়ে যায়।”

উপসংহার

আল্লাহর ভালোবাসাই একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন। এই ভালোবাসা বান্দাকে আনুগত্যে দৃঢ় করে, ইবাদতে স্বাদ এনে দেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বয়ে আনে। তবে আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি তখনই সত্য হয়, যখন তাঁর আদেশ ও রাসুল (সা.)–এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালিত হয়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top