জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি সুরক্ষিত ও গোপন স্থানে অবস্থান করছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। সেখানে বসেই তিনি বাংলাদেশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠক ও ফোনালাপে অংশ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি সক্রিয় রয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তারা দিল্লিতে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং আগামী দিনে রাজনীতিতে ফেরার কৌশল নির্ধারণ করছেন বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনা নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দিনে দীর্ঘ সময় ফোনালাপ ও বৈঠকে ব্যয় করছেন এবং দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী রয়েছেন।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতারা ভিন্ন কৌশল নিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন পুনরায় তাদের দিকেই ফিরতে পারে। এ কারণে অনেক নেতাই কর্মীদের নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, দলীয় কর্মীদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে এবং ভোট বর্জনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাসনে থাকা কয়েকজন নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ফিরলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দেশে ফিরলে আইনি জটিলতা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং দলটির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।