লোকসভায় বই উদ্ধৃতি বিতর্কে উত্তপ্ত বাজেট অধিবেশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:৫৪
কেন্দ্রীয় বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সোমবার তীব্র উত্তেজনায় উত্তাল হয়ে ওঠে ভারতের লোকসভা। সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ সংসদে পড়ার চেষ্টা কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতার অংশ হিসেবে বইয়ের একটি অংশ পাঠ করতে চাইলে তাকে বাধা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শোরগোল এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন দুপুর ৩টা পর্যন্ত মুলতুবি করতে হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সঙ্গে। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের লেখা অপ্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক বই ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি থেকে ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বইটির একটি অংশে দাবি করা হয়, ভারত-চীনের সেনা মুখোমুখি অবস্থানে থাকা সময়ে চিনের সাঁজোয়া যান ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, “অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি সংসদে আনা নিয়মসঙ্গত নয়।” এর পর বিতর্কে যুক্ত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাসক দলের সাংসদরা একযোগে আপত্তি জানাতে থাকেন, বিরোধী বেঞ্চ থেকেও পাল্টা স্লোগান উঠে।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাহুল গান্ধীকে অনুরোধ করেন বইয়ের অংশ বাদ দিয়ে বক্তৃতা চালানোর জন্য। রাহুল পাল্টা যুক্তি দেন যে বইয়ের কিছু অংশ ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এটি। কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদবও রাহুলের পক্ষে দাঁড়ান।
স্পিকার পরিষ্কারভাবে জানান, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতার আলোচ্যসূচির সঙ্গে বই উদ্ধৃতির কোনো সম্পর্ক নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় অখিলেশ যাদবকে বক্তৃতা করার জন্য নাম ঘোষণা করা হয়, তবে উত্তেজনা এতটাই তীব্র ছিল যে অধিবেশন মুলতুবি করতে বাধ্য হন স্পিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই এই বিতর্ক শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংঘাতকে আরও প্রকাশ্যে আনার সুযোগ দিয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।