পদত্যাগে অনড় মমতা, সাংবিধানিকভাবে কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৬, ২০:১৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি পদত্যাগ করব না”, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—যদি তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ না করেন, তাহলে সাংবিধানিকভাবে কী হতে পারে?
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দেন রাজ্যপাল এবং তিনি রাজ্যপালের সন্তুষ্টি অনুযায়ী পদে বহাল থাকেন। ফলে তাত্ত্বিকভাবে রাজ্যপালের হাতে মুখ্যমন্ত্রীকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। তবে এই ক্ষমতা এককভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়; সাধারণত তা নির্ভর করে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর।
যদি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে রাজ্যপাল আস্থা ভোটের নির্দেশ দিতে পারেন। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা সম্ভব হয় না।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ ৭ মে শেষ হচ্ছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধানসভা বিলুপ্ত হবে। এরপর নতুন নির্বাচিত সদস্যদের শপথ এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বাস্তবিকভাবে মমতার পদত্যাগ না করার ঘোষণা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, নতুন বিধানসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করবে।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, পদত্যাগ না করার ঘোষণা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে এর প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।