সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস হিসেবে কার্যদিবস শুরু
মোজাফ্ফর রহমান | প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৫
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউসে রূপ নিয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) কাস্টমস হাউসের প্রথম কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়া করেন মো: মুশফিকুর রহমান।
বিকেলে স্থানীয় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে তিনি বলেন, “ভোমরা স্থলবন্দর আগামীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে বন্দরটি জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।”
১৯৯৬ সালে শুল্ক স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দর দীর্ঘ তিন দশক পর পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউসে উন্নীত হলো। নতুন এই যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ধন্যবাদ জানান।
সভায় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সদ্য যোগদান করা কমিশনারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ভারতীয় ফল আমদানিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার জন্য কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম, কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন মন্টু, প্রচার সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার, বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক কিনু বিশ্বাস এবং ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক পংকজ দত্তসহ অনেকে।
অ্যাপোসিয়েশনের সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী আশা প্রকাশ করেন, পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস হওয়ার ফলে ভোমরা বন্দরে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে এবং রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত কিছু পণ্য ভারত থেকে আমদানির সুযোগ থাকলেও এখন ভোমরা বন্দরে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর মতো সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, দুই বছর আগে ৩৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৬ তলা বিশিষ্ট ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টম হাউসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ হয়। বেনাপোল স্থলবন্দরের অতিরিক্ত করকমিশনার মো: মুশফিকুর রহমান পদোন্নতি পেয়ে ভোমরা স্থলবন্দর যোগদান করেছেন এবং কার্যক্রম শুরু করেছেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।