চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের অবহেলায় সাত বছরের শিশুর মৃত্যু, খতনা নিয়ে বিতর্ক
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৮
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করানোর সময় মোহাম্মদ মোস্তফা (৭) নামে এক শিশুর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও রাতেই তার মৃত্যু হয়। শিশুটির পরিবার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে।চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করানোর সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় সাত বছরের মোহাম্মদ মোস্তফার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটির বাবা আবু মুসা জানিয়েছেন, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে তিনি ছেলেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকার সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মোস্তফাকে সার্জারি কক্ষে নেওয়া হয়।
সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। চমেক নেওয়ার পর মোস্তফাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হলেও রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু মুসা অভিযোগ করেছেন, অ্যানেসথেসিয়ার ত্রুটির কারণে তার সন্তান মারা গিয়েছে। তিনি বলেন, “খতনা একটি সাধারণ চিকিৎসা প্রক্রিয়া। এই ধরণের প্রক্রিয়ায় এমন ঘটনা হওয়া অসম্ভব।”
পরিবার জানায়, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মোস্তফাকে প্রথমবার ওই চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়েছিল। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের পথে জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়। খতনা ও ছোট অস্ত্রোপচারের জন্য সাধারণত জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয় এবং এতে খুব কম ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। তবে এই ঘটনায় কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।