সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

ল্যাব না থাকলেও দুই পদে নিয়োগের অভিযোগ

গোপালগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ–সভাপতির বিরুদ্ধে ডিজি বরাবর লিখিত অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরইহাট সিদ্দিকিয়া সিনিয়র (আলিম) মাদ্রাসায় সম্প্রতি গবেষণা/ল্যাব সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর—এই দুটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কোনো সচল কম্পিউটার ল্যাব বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। তবুও অদৃশ্য কারসাজির মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ অনিয়মের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমান ও সভাপতি মাওলানা মজিবুর রহমান জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

এলাকাবাসীর পক্ষে অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুল এহসান সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল এবং জড়িতদের আইনানুগ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবেদনপত্রের সঙ্গে গভর্নিং বডির সদস্যদের যৌথ বিবৃতি, এলাকার সুশীল সমাজ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মতামত, সংশ্লিষ্টদের কল রেকর্ড এবং নিয়োগ সংক্রান্ত এমপিও কপিসহ বিভিন্ন নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে গভর্নিং বডির ছয় সদস্য দাবি করেন, তাদের স্বাক্ষর সুকৌশলে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এমপিও কপি থেকে তারা দুটি পদে নিয়োগের তথ্য জানতে পারেন। পরে জানা যায়, পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন চালুর কথা বলে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিয়োগ অনুমোদনের রেজুলেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

 

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে সচল কম্পিউটার ল্যাব থাকা বাধ্যতামূলক এবং গভর্নিং বডি ও নিয়োগ কমিটির সভার রেজুলেশন প্রয়োজন হয়। তবে সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসার কোনো কক্ষেই কম্পিউটার ল্যাবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।” অন্যদিকে, মাদ্রাসার সভাপতি মাওলানা মজিবুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা, সভাপতি ও অধ্যক্ষের যোগসাজশে এ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top