বৈশ্বিক অস্থিরতায় আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
বানিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ১৭:২২
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫,১৯৮ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়। তবে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্স শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৫,২০৬ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা।
বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাসের সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিকোস কাভালিস বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমলেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব আবারও বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার নিয়ে তারা আশাবাদী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করতে পারেন।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। অনেক উৎপাদক সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও কমাতে বাধ্য হয়েছে। এতে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ছে।
বিশ্লেষক নিকোস কাভালিসের মতে, চলতি বছরের তৃতীয় বা চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি আগামী বছরের শুরুতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার প্রকাশিত হবে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়ের মূল্যসূচক, যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী ১৮ মার্চ দুই দিনের বৈঠক শেষে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, চলতি বছরে অন্তত দুই দফা সুদের হার কমতে পারে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্পট মার্কেটে রূপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৭ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২,১৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১,৬৬৩ দশমিক ৩৯ ডলারে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।