থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি,এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:২২
ঘাড়ে হালকা ফোলা, কণ্ঠস্বরের সামান্য পরিবর্তন বা গিলতে অস্বস্তি—এ ধরনের উপসর্গকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক রোগ থাইরয়েড ক্যানসার।
থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন নিঃসরণ ও বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ছোট্ট গ্রন্থিতে ক্যানসার হলে শুরুতে তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি ধরা পড়ে দেরিতে। তবে কিছু সূক্ষ্ম উপসর্গের দিকে নজর দিলে প্রাথমিক পর্যায়েই থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ
চিকিৎসকদের মতে, নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত—
- ঘাড়ে ছোট চাকা বা গাঁট অনুভব হওয়া
- জামার কলার হঠাৎ টাইট লাগা
- কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া বা স্বরে পরিবর্তন
- গিলতে সমস্যা
- ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
- গলা বা ঘাড়ে হালকা ব্যথা
থাইরয়েড ক্যানসারের একাধিক ধরন রয়েছে। এর মধ্যে—
- প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার: সবচেয়ে সাধারণ, ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেয়।
- ফলিকুলার থাইরয়েড ক্যানসার: তুলনামূলক কম দেখা যায়, হাড় ও ফুসফুসে ছড়াতে পারে।
- হারথল সেল থাইরয়েড ক্যানসার: আক্রমণাত্মক প্রকৃতির, অন্যান্য অঙ্গেও ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
- এনাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসার: সবচেয়ে বিপজ্জনক ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার।
- মেডুলারি থাইরয়েড ক্যানসার: সাধারণত জেনেটিক কারণে হয় এবং ক্যালসিটোনিন হরমোন উৎপাদনকারী কোষ থেকে শুরু হয়।
এ ছাড়া থাইরয়েড লিম্ফোমা ও সারকোমার মতো কিছু বিরল ক্যানসারও রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—
- অতীতে মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া
- পারিবারিক ইতিহাস বা জেনেটিক মিউটেশন
- নির্দিষ্ট কিছু জেনেটিক সিনড্রোম
বিশেষজ্ঞরা জানান, যাদের পরিবারে মেডুলারি থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক অস্ত্রোপচার (প্রোফাইল্যাকটিক থাইরয়েডেকটমি) বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ জরুরি।
থাইরয়েড ক্যানসার সাধারণত ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং শুরুতে নীরব থাকে। তাই ঘাড়ে সামান্য ফোলা, স্বরের পরিবর্তন বা গিলতে সমস্যা হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে এই নীরব ঘাতককে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।