বৃহঃস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

চোখের নিচের কালো দাগ: শুধু ক্লান্তির নয়, বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিতও হতে পারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯:১৪

সংগৃহীত

চোখের নিচে কালো দাগ বা ‘ডার্ক সার্কেল’ আজকাল অনেকেরই সাধারণ সমস্যা। সাধারণত রাত জেগে কাজ করা, ক্লান্তি বা অনিদ্রাকেই এর জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, সবসময় বিষয়টি এতটা সাধারণ নয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে ও ঘুম ঠিক থাকলেও চোখের নিচের স্থায়ী কালো দাগ শরীরের ভেতরের জটিল সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনি ও লিভারের কর্মহীনতা, দুর্বল রক্ত সঞ্চালন, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা হজমের সমস্যাও চোখের নিচের কালো দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কিডনির দুর্বলতা:

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনির সমস্যা থাকলে চোখের চারপাশে তরল জমে গিয়ে কালো দাগ বাড়তে পারে। এছাড়া ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে ওঠে। তবে সব কালো দাগ কিডনির কারণে হয় না; মানসিক চাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রম ও অনিয়মিত ঘুমও দায়ী হতে পারে।

লিভারের সমস্যা:

দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যা চোখের নিচের দাগের কারণ হতে পারে। দুর্বল লিভার রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান ফিল্টার করতে ব্যর্থ হলে ত্বক ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ হয়। লিভারে চর্বি জমা বা অকার্যকর বিপাকক্রিয়ার কারণে চোখ ক্লান্ত ও কালচে দেখায়। এই সমস্যা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, অ্যালকোহল পরিহার ও সক্রিয় জীবনধারা গুরুত্বপূর্ণ।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও অনিয়মিত মাসিক:

নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক বা হরমোনের অসামঞ্জস্যও চোখের নিচে কালো দাগের কারণ হতে পারে। এতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, ত্বক নিস্তেজ দেখায় এবং বয়সের তুলনায় চোখ ক্লান্ত দেখায়। এই অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়।

সমাধান:

চোখের নিচের কালো দাগের চিকিৎসা মূল কারণ নির্ভর। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রায় সব ক্ষেত্রে কার্যকর। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার—এগুলো ত্বকের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করলে ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ভালো থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, চোখের নিচের কালো দাগকে হালকাভাবে না দেখা উচিত। এটি কখনো কখনো সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, বরং ভয়াবহ রোগের আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top