শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বন্দিখানায় থেকেই দেশের শিক্ষা-চিকিৎসা-খাদ্য নিরাপত্তার রূপকল্প লিখেছি

রাজিউর রাহমান | প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৩, ০১:০৯

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার মান অনেক উন্নত হয়েছে। এই মান আরও উন্নত করে আমরা বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। এটা আমাদের লক্ষ্য এবং এটি অর্জনে আমাদের কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে যখন বন্দিখানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমি সময়টা হেলায় নষ্ট না করে সেখানে বসে দেশের ভাগ্য উন্নয়নের চিন্তা করেছি। সে জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কিভাবে কাজ করা যায়, তার জন্য রূপকল্প তৈরি করেছি। দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তার চিন্তা সব সময় আমার মাথায় ঘুরপাক খেত। আর সেই রূপকল্পই আজ ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন হয়েছে।

‘দেশের মানুষ শিক্ষিত হোক বিএনপি-জামায়াত চায়নি’ এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও বোমাবাজি ছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিল, এমনটাই জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাকে বলা হলো- আপনি ইলেকশন (নির্বাচন) করবেন না। আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখা হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম- প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা কী? এসি রুম, একখানা গাড়ি? এগুলো তো আমি চাই না।

সরকারপ্রধান বলেন, এমন নানান প্রলোভনের পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাদের বলেছি, আমাকে এসব লোভ দেখিয়ে লাভ নেই। আমার বাবা এ দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আমিও প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ির প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। আমি এসেছি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে, নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয়।

রবিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষদের জাতীয় কাউন্সিল এবং বৃত্তি বিতরণ-২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। অনুষ্ঠানে ১০ জন অসচ্ছল মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবার মোট ১১ হাজার ২৮৫ জন অসচ্ছল মেধাবী এবং ১ হাজার ১০৯ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মিলিয়ে মোট ১২ হাজার ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী প্রায় ৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার বৃত্তি পেয়েছে।




পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top