নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালোথ্রা
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:১২
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক সীমা মালোথ্রা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় পৌঁছাবেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, সীমা মালোথ্রা বিকেল ৫টায় ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।
সীমা মালোথ্রা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।
উল্লেখ্য, সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ গ্রহণ করবেন এবং বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সীমা মালোথ্রা বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সাক্ষাতের সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি। সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়বস্তুতে রয়েছে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অবস্থান।
সীমা মালোথ্রা একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে লেবার পার্টির নির্বাচনী বিজয়ের পর তিনি প্রথমে হোম অফিসে পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিসে ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিযুক্ত হন।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল যুক্তরাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে এশিয়া-প্যাসিফিক দেশসমূহ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। সীমা মালোথ্রা এই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নীতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত কার্যক্রমে কাজ করেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন সহায়তায় দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
সীমা মালোথ্রার এই সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি আস্থার প্রতীক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সার্কভুক্ত দেশসহ চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।