নির্বাচনী উত্তাপ, বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ চরমে
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২:৩০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে বগুড়া জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। জেলায় ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াইটি হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। বিএনপি জেলায় সব ৭টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাইলে, জামায়াত জানিয়েছে তারা সব আসনে ভালো করবে।
বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে ৭টি সংসদীয় আসন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১, নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন। জেলায় মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বন্ধ হলেও বেশ কিছু এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শিবগঞ্জ ও শেরপুরে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জুলাইযোদ্ধাদের ওপর হামলা এবং বিএনপি নেতার চোখে আঘাতের ঘটনা সংবাদে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বগুড়া বিএনপির দুর্গ হলেও শুধু তারেক রহমানের আসন ছাড়া অন্যান্য আসনে জয় পেতে বিএনপিকে অনেক প্রচেষ্টা করতে হবে। বগুড়া-২ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে বর্জন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী এলাকায় তার লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা অভিযোগ করেছেন, কিছু কিছু জায়গায় ভোটারদের আইডি কার্ডের ছবি তোলা এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ বগুড়ার জনগণ তাদের প্রিয় সন্তান তারেক রহমানকে ৭টি আসনই উপহার দেবে।”
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রামে ভোটের টাকার লেনদেনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পারশুন গ্রামে সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৪-৫ জন আহত হয়েছেন এবং আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুল মুহিত তালুকদার অভিযোগ করেছেন, জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ভোটের আহবান জানিয়েছেন। ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাইলে তবেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।