মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

মেহেরপুরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৯

সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে সংঘর্ষটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

সংঘর্ষে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু (৬০), রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০), বিএনপি কর্মী খাইরুল ইসলাম (৪৪) ও রাসেল হোসেন (৪২) গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন কালু ও খাইরুল ইসলামকে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপু দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপি নেতা সারকিদুল ইসলাম। বিএনপির একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছিল।

উভয় পক্ষের দাবির জেরে মঙ্গলবার সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার হয়। গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু অভিযোগ করেন, প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকৃতপক্ষে দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও নিজের পছন্দের লোককে সরকারি বরাদ্দ ও ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করছেন এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করছেন।

অপর দিকে প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছিল। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন।

অতুল কুমার, এলঙ্গী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top