প্রধান উপদেষ্টার প্রস্তাবে হাদির স্ত্রী বললেন, ‘নিজের যোগ্যতায় চাকরি নেব’
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:০১
শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মূলত হাদির সন্তান ফিরনাসের দেখাশোনার বিষয়ে আগে দেওয়া সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাকে যমুনায় ডাকা হয়।
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শম্পা নিজেই সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ড. ইউনূস তার বাসভবনে তাকে ও সন্তান ফিরনাসকে আমন্ত্রণ জানান। তবে সেখানে যাওয়ার পথে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে সরকারের ভেতরে এখনো একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শম্পা।
শম্পা লেখেন, শুরুতে তিনি বুঝতে পারেননি সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য। পরে জানতে পারেন, ফিরনাসের দেখভালের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র হস্তান্তরের জন্যই তাদের ডাকা হয়েছে। এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ওসমান হাদির হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে তিনি কিংবা তার সন্তান কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
তার ভাষায়, তিনি ড. ইউনূসকে জানিয়েছেন- হাদির বিচার প্রশ্নে সর্বোচ্চ চেষ্টা না হলে ফিরনাস কিছুই গ্রহণ করবে না। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করে, প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হলেও, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে তিনি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
চাকরির বিষয়ে প্রস্তাব এলে শম্পা তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতেই কর্মজীবন গড়তে চান। সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় শম্পার স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে জানান শম্পা। এই আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি যমুনা ত্যাগ করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।