সব র্যাশই কি হাম? জেনে নিন
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৯
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম রোগের প্রকোপ বাড়ায় অনেকেই যেকোনো ধরনের ত্বকের র্যাশকে হাম ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সব র্যাশই হাম নয়। মার্চ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৪৬২৮ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও মাত্র ৮২৬ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
র্যাশ একটি সাধারণ উপসর্গ, যা বিভিন্ন রোগে দেখা দিতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ যেমন রুবেলা বা চিকেনপক্স, ডেঙ্গু জ্বর, অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ত্বকে র্যাশ হতে পারে। তাই শুধু র্যাশ দেখেই হাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসকদের মতে, হামের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যায়—উচ্চ জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়া (Cough, Coryza, Conjunctivitis)। এর পাশাপাশি অনেক সময় র্যাশ ওঠার আগে গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ, অর্থাৎ ‘কপলিক স্পট’ দেখা যায়, যা হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকারী লক্ষণ।
অন্যদিকে বিভিন্ন রোগে র্যাশের ধরন ভিন্ন হয়—
রোজোলা: সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কয়েকদিন উচ্চ জ্বরের পর হঠাৎ জ্বর কমে গেলে হালকা গোলাপি র্যাশ ওঠে, যা দ্রুত সেরে যায়।
চিকেনপক্স: পানিভরা ফোস্কার মতো র্যাশ, তীব্র চুলকানি থাকে এবং শরীরজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের দানা একসঙ্গে দেখা যায়।
স্কারলেট ফিভার: ত্বক খসখসে হয়ে যায় এবং ঘাড় ও বুক থেকে শুরু করে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যালার্জি: হঠাৎ করে লালচে, চাকা চাকা এবং প্রচণ্ড চুলকানিযুক্ত র্যাশ দেখা দেয়, সাধারণত খাবার বা ওষুধের প্রতিক্রিয়ায়।
ডেঙ্গু: জ্বরের কয়েকদিন পর লালচে দাগ বা নেটের মতো র্যাশ দেখা যায়, যা চাপ দিলে ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
রুবেলা: হালকা গোলাপি র্যাশ মুখ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণত তিনদিন স্থায়ী হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু র্যাশ দেখে রোগ নির্ণয় করা বিপজ্জনক হতে পারে। জ্বরের ধরন, অন্যান্য উপসর্গ এবং র্যাশের প্রকৃতি বিবেচনা করা জরুরি। তাই শরীরে র্যাশ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।