দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫০
দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিভাজন নয়, ঐক্যই দেশের মূল শক্তি।
বৃহস্পতিবার ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বীর শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাঁদের অবদান জাতি কোনো দিন ভুলবে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উনিশশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকটময় সময়ে যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তারা জাতির অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
স্বাধীনতা পুরস্কারকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সব জাতীয় নেতার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ইতিহাসের সত্যকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
চলতি বছরে পনেরো জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সম্মান অর্জন করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে দেশের অনেক অর্জন থাকলেও এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে ব্যক্তিগত বিরোধ ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাই তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।
বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।
শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি অপচয় পরিহারের আহ্বান জানান এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের জাতীয় গৌরব হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সাফল্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।