মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সিরিয়া থেকে তাদের সর্বশেষ সেনাসদস্যদেরও প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার হাসাকাহ অঞ্চলের কাসরাক সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছে।
সিরীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ঘাঁটি ত্যাগের পরপরই সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনীর ষাটতম ডিভিশন সেখানে প্রবেশ করে। কাসরাক ঘাঁটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিও ছিল।
মূলত ২০১৫ সাল থেকে দায়েশ বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ায় অবস্থান করছিল মার্কিন বাহিনী।
বিশ্লেষক চার্লস লিস্টার জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম জর্ডান সীমান্ত হয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বর্তমানে ওই ঘাঁটি কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরীয় গণতান্ত্রিক বাহিনী এবং সরকারি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে কুর্দি বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়েছে। এখন থেকে সিরিয়া নিজেই তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাস দমনের দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং আহমেদ আল শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী এবং দামেস্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। এর ফলে কুর্দি যোদ্ধারা সিরীয় সরকারের অধীনে কাজ করতে সম্মত হয়, যা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে সহজ করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে সিরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ভূমিকা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।