বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

চীনের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:২৮

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনা সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। এছাড়া ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপন এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য আলোচনা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানটি চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে, সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদার দেশগুলো বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে এবং এতে উভয় দেশই লাভবান হয়েছে। এ সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানায় বেইজিং।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

বাণিজ্য কূটনীতিতে গুরুত্ব-

সাক্ষাৎকারে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হলেও তারা এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন, যেখানে স্পষ্ট হবে যে নতুন সরকার বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত।

তিনি বলেন, বাণিজ্য কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রেখে নতুন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।

বর্তমানে জ্বালানি খাতে মার্কিন কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যান্য বড় মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও মুনাফা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত জটিলতাকে বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো মার্কিন ব্র্যান্ড এখনো বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেনি।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top